![]() |
| ধূমকেতুর আসল রহস্য |
ধূমকেতুর আসল রহস্য
সূর্যের আপন রাজত্বে অর্থাৎ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ ছাড়া আরও যে দু'রকম বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে তা হলো ধূমকেতু আর উল্কা। ধুমকেতু আসলে সৌরজগতের নিজস্ব কোনো জিনিস নয়। বরং তারা হচ্ছে আগন্তুক, অর্থাৎ সৌরজগতে তাদের আকস্মিক আবির্ভাব ঘটে।
ধুমকেতু এক রহস্যময় পদার্থ। প্রথমে তাকে দেখা যায় একখ ধোয়ার মতো পদার্থ হিসেবে। যতই সে তাড়াতাড়ি চলতে থাকে, ততই ঝাঁটার মতো একটি লেজ বেরিয়ে সেটা ক্রমেই বড় হতে থাকে। ঝাঁটা না বলে এই পদার্থকে লম্বা চুলের মতো ও বলা যেতে পারে। আর সেই জন্যই এর নাম হয়েছে "Comet" বা "লম্বা চুলওয়ালা"।
এটিকে চুল বলা হোক বা লেজ বলা হোক সব সময় সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে মুখ করে থাকে। তারপর ধূমকেতুটি যখন সূর্যকে ঘুরে চলে যায় তখন দেখা যায় যে সে তার লেজটিকে সামনে তুলে ধরে পালাচ্ছে। যত দূরে চলে যায় তার আলো আর নিজের বহর আস্তে আস্তে কমতে কমতে একবিন্দু আলো টুকরোর মতো মনে হয়। ১৯৬১ সালে একটি ধূমকেতুকে বছর ধরে দেখা গিয়েছিল। আর সেই ধূমকেতুর লেজটি লম্বা ও ছিল ভয়ঙ্কর রকমের। এই লেজ আবার কখনও কখনও দুটো কি তিনটে ও দেখা যায়। ১৭৪৪ সালে দ্য সীজোর ( De Cheseux) ধূমকেতুর ছয়টা লেজ দেখতে পান। সেই ধূমকেতুটির লেজই সর্বস্ব নয় বরং তার শরীরও আছে। তার শরীরের আকৃতি সবসময় পৃথিবীর সমান হয় না। ১৮১১ সালের ধূমকেতুটি সূর্যের চেয়েও বড় ছিল। সূর্যের তেজ যখন সেই গ্যাসগুলোকে টেনে নিয়ে যায় তখন উল্টো দিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্যাসগুলো লেজের মত দেখায়। তাইতো সেকালের মানুষ ধূমকেতুর দেখা পেলে একটা কিছু অশুভ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়তো।
রোমের সম্রাট ভেস্পেসিয়ানের আমলে ৭৯ খ্রিস্টাব্দে একটি ধূমকেতুকে দেখে রোমবাসী প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ১৯১০ সালে হ্যালির ধূমকেতু যখন এলো তখন হিসেব কষে দেখা গেল যে তার লেজের ঝাপটা পৃথিবীতে এসে লাগবে। সেই কল্পিত ভয়ে পৃথিবীর মানুষ খুবই আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল। সকলের মনে এই ধারণা প্রায় বদ্ধমূল হয়েছিল যে এবার বোধহয় আর রক্ষে নেই। ওই ধূমকেতুর লেজের ঝাপটায় পৃথিবী রসাতলে যাবে। অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। সেই কল্পিত ভয়ের দিন শেষ পর্যন্ত একদিন পৃথিবীতে এলো। হ্যালির ধুমকেতু পৃথিবীর উপর দিয়ে তার লেজের ঝাপটা মেরে গেল কিন্তু কিছু হল না। মানুষের গায়ে একটা আঁচড় পর্যন্ত পড়ল না। এমনকি গাছপালার একটা পাতার পর্যন্ত কোন ক্ষতি হলো না। কেনই বা হবে ধূমকেতুর লেজ বলে যাকে পৃথিবীর মানুষ ভয় পাচ্ছিল না আসলে তা তো আর কিছু নয়, ফাঁকা ফাঁকা কতগুলো পরমাণু মাত্র। অসম্ভব রকমের হালকা সেই পরমাণুতে ধাক্কা লাগবে কেন?
নিউটনের বন্ধু ছিলেন হ্যালি (Edmund Halley)। এই হ্যালি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজ জ্যোতিষী। ধুমকেতু দের আনাগোনার যে একটা নিয়ম আছে এই কথাটা আগে কেউ জানত না। নিউটন যখন তার মহাকর্ষের নিয়ম আবিষ্কার করলেন তখন হ্যালি সেই নিয়ম এর সাহায্যে বের করলেন যে সবগুলি না হলেও কোনো কোনো ধুমকেতু ফিরে ফিরে আসে। তার মতে ৭৫-৭৬ বছর পর পর ধূমকেতু আসবে। সে কথা যদি সত্যি হয় তাহলে আবার ১৭৫৮ খ্রী: ধুমকেতু আসার কথা। কিন্তু ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে ধূমকেতুকে দেখা গেল। ১৮৩৫ খ্রী: ধূমকেতুটি আবার দেখা দিল। তখন সেই ধূমকেতুর নাম রাখা হলো হ্যালির ধূমকেতু। সেই ধুমকেতু আবার ১৯১০ এবং ১৯৮৬ সালে দেখা গিয়েছিল।
এই ধূমকেতুরা বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি বড় গ্রহের টানে সৌরজগত ছাড়িয়ে যেতে পারে না। তার মধ্যেই ঘুরতে হয়। বৃহস্পতি এরকম প্রায় 30 টি ধূমকেতুকে ধরে রেখেছে। হ্যালির ধূমকেতু হচ্ছে নেপচুনের টানে বন্দি। এই বন্দি ধুমকেতু বেশিদূর যেতে পারেনি বলেই বারবার পৃথিবীর আকাশে আবির্ভূত হয়।
অর্থাৎ বন্ধুরা ধুমকেতু এমন একটি জিনিস যা বার বার ফিরে আসতে পারে। কারণ মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা অনেক। তাই ধূমকেতু সম্পর্কে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
ধন্যবাদ সবাইকে।


0 মন্তব্যসমূহ